সাধারণ কসাই ও মুসা (আঃ)-এর বিস্ময়কর কথোপকথন

সাধারণ কসাই ও মুসা (আঃ)-এর বিস্ময়কর কথোপকথন

By Alamgir kabir

 জান্নাতের সঙ্গী: এক সাধারণ কসাই ও মুসা (আঃ)-এর বিস্ময়কর কথোপকথন

জান্নাতুল ফেরদৌস—মুমিন হৃদয়ের পরম আকাঙ্ক্ষার স্থান। কিন্তু সেই চিরস্থায়ী জান্নাতে নবী ও রাসূলদের মতো মহান ব্যক্তিদের পাশে কার অবস্থান হবে? কখনো কি ভেবে দেখেছেন, সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তিটি কে হতে পারেন?

আজ আপনাদের এমন একটি সত্য ঘটনার কথা শোনাবো, যা আমাদের শেখায়—আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পাহাড়সম ইবাদতের চেয়েও বড় কোনো আমল থাকতে পারে, আর তা হলো নিঃস্বার্থ মা-বাবার সেবা।

একদা কালিমুল্লাহ হযরত মুসা (আঃ) পরম করুণাময়ের দরবারে মুনাজাত করছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি বিনয়ের সাথে জানতে চাইলেন, "হে আল্লাহ! জান্নাতে আমার সঙ্গী কে হবে? দুনিয়াতেই কি তার সাথে আমার সাক্ষাৎ করানো সম্ভব?"

আল্লাহ তায়ালা মুসা (আঃ)-কে জানালেন, অমুক এলাকার একজন সাধারণ কসাই তার জান্নাতের সঙ্গী।

মুসা (আঃ) কিছুটা বিস্মিত হলেন। একজন নবী—যিনি সরাসরি আল্লাহর সাথে কথা বলেন—তার জান্নাতের সঙ্গী হবেন সাধারণ একজন কসাই! কী এমন আমল তিনি করেন, যার কারণে তিনি এমন মর্যাদাবান হলেন? এই কৌতূহল মেটাতে মুসা (আঃ) সেই এলাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন।

মুসা (আঃ) কসাইয়ের দোকানে গিয়ে হাজির হলেন। দেখলেন, এক যুবক অত্যন্ত ব্যস্ততার সাথে গোস্ত বিক্রি করছেন। মুসা (আঃ) তার প্রতিটি নড়াচড়া ও কাজ গভীরভাবে লক্ষ্য করতে লাগলেন। কিন্তু অবাক হওয়ার বিষয় হলো, তার জীবনে কোনো বিশেষ ইবাদত বা অলৌকিক কিছু চোখে পড়ল না। সাধারণ পাঁচজন মানুষের মতোই তার জীবনযাত্রা।

দিনের শেষে কসাই যখন নিজের বাড়ির দিকে রওনা হলেন, মুসা (আঃ) ছদ্মবেশে তার পিছু নিলেন এবং মেহমান হিসেবে তার বাড়িতে প্রবেশ করলেন।বাড়িতে ঢুকে মুসা (আঃ) এক অসাধারণ দৃশ্যের সাক্ষী হলেন। কসাই যুবকটি নিজ হাতে খাবার তৈরি করে ঘরের এক কোণে রাখা একটি ঝুড়ি নামালেন। সেখানে একজন বৃদ্ধা ছিলেন। যুবকটি অত্যন্ত পরম মমতায় বৃদ্ধাকে গোসল করালেন, নিজ হাতে খাইয়ে দিলেন এবং আবার পরম আদরে আগের জায়গায় রেখে দিলেন।

মুসা (আঃ) দেখলেন, বৃদ্ধাটি বিড়বিড় করে কিছু যেন বলছেন। তার মুখের অস্পষ্ট ভাষা স্পষ্ট বোঝা না গেলেও, সেখানে যেন এক গভীর তৃপ্তির ছোঁয়া ছিল।

আহার শেষ করার পর মুসা (আঃ) কসাইকে জিজ্ঞেস করলেন, "এই বৃদ্ধাটি কে এবং তার বিড়বিড় করার কারণ কী?"

যুবকটি বিনয়ের সাথে উত্তর দিল, "ইনি আমার মা। আমি তার সেবা করি। আমি যখনই তাকে সেবা দিই, তিনি দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন: 'হে আল্লাহ! তুমি আমার ছেলেকে ক্ষমা করো এবং জান্নাতে তাকে মুসা (আঃ)-এর সঙ্গী হিসেবে কবুল করো।'"

মুসা (আঃ)-এর চোখ দিয়ে তখন অশ্রু ঝরছিল। তিনি যুবককে জড়িয়ে ধরে বললেন, "হে যুবক! আমি মুসা। আল্লাহ তোমার মায়ের দুআ কবুল করেছেন। জান্নাতে আমার সঙ্গী কে হবে—জানতে চাইলে আল্লাহ তোমার নামই আমাকে জানিয়েছেন। আজ বুঝতে পারলাম, তোমার এই নিরলস মায়ের সেবাই তোমাকে এই অকল্পনীয় মর্যাদায় উন্নীত করেছে।"

মা-বাবার পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত—এই কথাটিই যেন মুসা (আঃ) ও সেই কসাইয়ের ঘটনায় বাস্তব রূপ পেয়েছে। আমরা অনেকে বড় বড় ইবাদত খুঁজি, কিন্তু আমাদের ঘরের কোণে যে জান্নাতের চাবিকাঠি পড়ে আছে, তার খবর রাখি না।

মা-বাবার সেবা করার জন্য কোনো বিশেষ সময়ের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন শুধু হৃদয়ের ভালোবাসা। মনে রাখবেন, আপনার মায়ের এক ফোঁটা চোখের জল বা তৃপ্তির হাসি আপনাকে পৌঁছে দিতে পারে নবী-রাসূলদের কাতারে।

(সূত্র: জামে তিরমিযী, হাদিস ২৪৩৩; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ১২৮২৫)

Alamgir
Written by Alamgir kabir

A software developer experienced in C#, ASP.NET Core, SQL Server, and Azure, with knowledge of Angular and React. He enjoys learning new technologies and sharing practical knowledge through teaching and blogging.

Comments

Loading comments...