হাম (Measles): কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
হাম কী?
Measles (হাম), যা রুবেওলা নামেও পরিচিত, একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি সাধারণত শ্বাসযন্ত্রে শুরু হয় এবং দ্রুত শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে হাম প্রতিরোধের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর টিকা থাকলেও, এটি এখনো বিশ্বব্যাপী শিশু মৃত্যুর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
হামের লক্ষণ (Symptoms)
ভাইরাসে সংক্রমণের ১০–১২ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা যায়।
প্রাথমিক লক্ষণ:
- উচ্চ জ্বর
- শুকনো কাশি
- সর্দি
- গলা ব্যথা ও স্বরভঙ্গ
- চোখ লাল হওয়া
বিশেষ লক্ষণ:
- মুখের ভেতরে সাদা দাগ (Koplik spots)
ত্বকের ফুসকুড়ি:
- ১৪ দিনের মধ্যে দেখা যায়
- প্রথমে মুখে শুরু হয়
- পরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে
- সাধারণত ৫–৭ দিন স্থায়ী হয়
হামের কারণ
হাম একটি ভাইরাস দ্বারা হয়, যা Morbillivirus (Paramyxovirus পরিবারের Morbillivirus)।
এই ভাইরাস:
- প্রথমে শ্বাসতন্ত্রে আক্রমণ করে
- পরে রক্তের মাধ্যমে পুরো শরীরে ছড়িয়ে যায়
হাম কীভাবে ছড়ায়?
হাম অত্যন্ত সংক্রামক এবং সহজেই ছড়ায়:
- কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে
- বাতাসে ভাসমান ড্রপলেটের মাধ্যমে
- দূষিত বস্তু স্পর্শ করার মাধ্যমে
সংক্রমিত ব্যক্তি:
- ফুসকুড়ি হওয়ার ৪ দিন আগে থেকে
- এবং ৪–৫ দিন পরে পর্যন্ত সংক্রমণ ছড়াতে পারে
রোগ নির্ণয় (Diagnosis)
হাম নির্ণয় করা হয়:
- ত্বকের ফুসকুড়ি দেখে
- মুখের সাদা দাগ (Koplik spots)
- জ্বর, কাশি ইত্যাদি লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে
প্রয়োজনে:
- রক্ত পরীক্ষা করে ভাইরাস নিশ্চিত করা হয়
চিকিৎসা (Treatment)
হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই।
তবে লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়:
- জ্বর কমানোর ওষুধ
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম
- পুষ্টিকর খাবার
- ভিটামিন A সাপ্লিমেন্ট
সাধারণত ২–৩ সপ্তাহের মধ্যে রোগ সেরে যায়।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
- ৫ বছরের কম শিশু
- ২০ বছরের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক
- গর্ভবতী নারী
- দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি
- অপুষ্টিতে ভোগা মানুষ
জটিলতা (Complications)
প্রায় ৩০% ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে:
- নিউমোনিয়া
- এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ)
- কানের ইনফেকশন
- মারাত্মক ডায়রিয়া
- অন্ধত্ব
- গর্ভপাত (গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে)
প্রতিরোধ (Prevention)
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা।
টিকাদান সূচি:দুটি ডোজ প্রায় ৯৭% সুরক্ষা প্রদান করে
সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয়
- নিয়মিত হাত ধোয়া
- কাশি/হাঁচির সময় মুখ ঢেকে রাখা
- ব্যক্তিগত জিনিস শেয়ার না করা
- আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা
হাম হলে করণীয়
- সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকা
- অন্তত ৪ দিন ঘরে থাকা (ফুসকুড়ি ওঠার পর)
- ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
হাম ও COVID-19 সম্পর্ক
COVID-19 মহামারীর সময় অনেক শিশু নিয়মিত টিকা মিস করেছে, ফলে ভবিষ্যতে হামের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বেড়েছে।
তাই টিকাদান কার্যক্রম পুনরায় জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য রোগ।সঠিক সময়ে টিকা গ্রহণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই রোগ ও এর মারাত্মক জটিলতা থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
Written by Alamgir kabir
A software developer experienced in C#, ASP.NET Core, SQL Server, and Azure, with knowledge of Angular and React. He enjoys learning new technologies and sharing practical knowledge through teaching and blogging.
Comments
- কোরান মাজিদ (8)
- হাদিস শরীফ (6)
- Programming (4)
- IOT (1)
- বাংলা কবিতা (6)
- বাংলা উপন্যাস (0)
- বাংলা ছোটগল্প (0)
- ইতিহাস ইসলামের (7)
- হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack) (2)
- ডায়াবেটিস (2)
- মুসলিম মনীষী (2)
- মনীষী (2)
- Web Development (2)
- Web Design (1)
- C# (0)
- Javascript (2)
- Digital Marketing (1)
- Freelancing (1)
- Outsourcing (1)
- View all
Posts by Topic
- কোরান মাজিদ (8)
- হাদিস শরীফ (6)
- Programming (4)
- IOT (1)
- বাংলা কবিতা (6)
- বাংলা উপন্যাস (0)
- বাংলা ছোটগল্প (0)
- ইতিহাস ইসলামের (7)
- হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack) (2)
- ডায়াবেটিস (2)
- মুসলিম মনীষী (2)
- মনীষী (2)
- Web Development (2)
- Web Design (1)
- C# (0)
- Javascript (2)
- Digital Marketing (1)
- Freelancing (1)
- Outsourcing (1)
- View all
Loading comments...