হার্ট অ্যাটাক কী?

হার্ট অ্যাটাক কী?

By Alamgir kabir

হার্ট অ্যাটাক কী?

হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack), যা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন নামেও পরিচিত, তখন ঘটে যখন হৃদপিণ্ডের কোনো অংশে রক্ত প্রবাহ সম্পূর্ণ বা গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত হয়,ফলে হৃদপিণ্ডের পেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মারা যায়। এটি একটি জরুরি চিকিত্সা অবস্থা যা অবিলম্বে চিকিত্সা না করলে মারাত্মক হতে পারে।

MI

 

কেন এবং কীভাবে হয়:হার্ট অ্যাটাকের প্রধান কারণ হলো করোনারি আর্টারি ডিজিজ (CAD), যেখানে ধমনীতে ফ্যাট, কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য পদার্থ জমে প্লেক (clot) তৈরি করে। এই প্লেক (clot) ফেটে গেলে রক্ত জমাট বাঁধে এবং ধমনীকে সম্পূর্ণ ব্লক করে দেয়, ফলে হৃদপিণ্ডে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পৌঁছাতে পারে না। অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান বা ডায়াবেটিসের মতো অবস্থা যা ধমনীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

Causes

মূল কারণ হলো—

করোনারি আর্টারিতে চর্বি (কোলেস্টেরল) জমে ব্লক হয়ে যাওয়া।

এই ব্লকেজের উপর হঠাৎ রক্ত জমাট (clot) বেঁধে গেলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় → হার্ট অ্যাটাক।

সহজভাবে

1.ধমনিতে চর্বি জমে সরু হয়

2.হঠাৎ সেখানে রক্ত জমাট বাঁধে

3.হার্টে অক্সিজেন পৌঁছায় না

4.হার্টের পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় → হার্ট অ্যাটাক

রিস্ক ফ্যাক্টর (ঝুঁকি বাড়ায় যেগুলো):

  1. উচ্চ রক্তচাপ: অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ ধমনীর ক্ষতি করে।
  2. উচ্চ কোলেস্টেরল: রক্তে চর্বির পরিমাণ বেশি হওয়া।
  3. ডায়াবেটিস: রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে রক্তনালীর ক্ষতি হয়।
  4. ধূমপান: তামাক হৃদপিণ্ডের ধমনীকে সরু করে দেয়।
  5. অতিরিক্ত ওজন ও অলস জীবনযাপন: শারীরিক পরিশ্রম না করা।
  6. অস্বাস্থ্যকর খাবার: অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত এবং লবণের খাবার খাওয়া।
  7. বয়স ও বংশগতি: বয়স বাড়ার সাথে ঝুঁকি বাড়ে (পুরুষদের জন্য ৪৫+ এবং নারীদের জন্য ৫৫+) এবং পরিবারে হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি থাকে।

প্রতিকার বা প্রতিরোধ (Prevention):

  • প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট নিয়মিত ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করা।
  • ধূমপান ও মদ্যপান পুরোপুরি বর্জন করা।
  • তৈলাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া এবং অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলা।
  • ফলমূল ও শাকসবজি বেশি করে খাওয়া।
  • মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কমানোর চেষ্টা করা।
  • নিয়মিত ব্লাড প্রেসার ও সুগার চেক করা।
  • ওজন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ
  • পর্যাপ্ত ঘুমানো |
  • নিয়মিত ডাক্তারের চেকআপ|

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ:

  1. বুকের মাঝখানে অসহনীয় চাপ বা ব্যথা অনুভব করা (যা কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হতে পারে)।
  2. ব্যথা বাম হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়া।
  3. প্রচণ্ড ঘাম হওয়া।
  4. শ্বাসকষ্ট হওয়া।
  5. বমি বমি ভাব বা বুক ধড়ফড় করা।
  6. হালকা মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি।
  7. অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা (বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বেশি)।

Prevent

 

তাৎক্ষণিক জরুরি করণীয় (First Aid):

যদি আপনার বা আশেপাশের কারো হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে বলে সন্দেহ হয়, তবে দ্রুত নিচের পদক্ষেপগুলো নিন:

১. দ্রুত সাহায্য চান: দেরি না করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন বা কাছের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করুন।

২. বিশ্রাম: রোগীকে নড়াচড়া করতে দেবেন না। তাকে শান্ত অবস্থায় শুইয়ে বা হেলান দিয়ে বসিয়ে দিন।

৩. অ্যাসপিরিন (Aspirin): যদি সম্ভব হয় এবং রোগীর অ্যালার্জি না থাকে, তবে একটি ৩০০ মিলিগ্রামের অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট চিবিয়ে খেতে দিন। এটি রক্ত জমাট বাঁধা কমাতে সাহায্য করে।

৪. শ্বাস-প্রশ্বাস পর্যবেক্ষণ: রোগী অজ্ঞান হয়ে গেলে এবং শ্বাস না চললে অভিজ্ঞ কেউ থাকলে CPR (Cardiopulmonary Resuscitation) শুরু করতে হবে।

মনে রাখবেন: হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ। সামান্যতম সন্দেহ হলেও রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

CPR

 

Alamgir
Written by Alamgir kabir

A software developer experienced in C#, ASP.NET Core, SQL Server, and Azure, with knowledge of Angular and React. He enjoys learning new technologies and sharing practical knowledge through teaching and blogging.

Comments

Loading comments...